মামুনুল হকের সঙ্গে থাকা সেই নারীর সাবেক স্বামী শহিদুল আটক

Sara deshSara desh
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:১৬ AM, ০৫ এপ্রিল ২০২১

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের একটি রিসোর্টে হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে থাকা সেই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী যিনি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু শহিদুল ইসলামের সাবেক স্ত্রী ছিলেন। এ ঘটনার পর এবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেই শহিদুল ইসলামকে খুলনার সোনাডাঙ্গা থেকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ।

রোববার (০৪ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে তাকে আটক করা হয়।

জানা গেছে, সেই নারীর নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা (২৭)। তিনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কামারগ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. ওলিয়ার রহমান ওরফে ওলি মিয়ার মেঝো মেয়ে। ওলিয়ার রহমান কামারগ্রাম ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

মামুনুল হক ওই নারীর নাম আমেনা তৈয়াবা বললেও ওই নারী নিজেকে জান্নাত আরা বলে পরিচয় দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও গণমাধ্যমে প্রচারের পর দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। উপজেলা জুড়ে এখন ঝর্ণাকে নিয়েই চলছে আলোচনার ঝড়। তবে জান্নাতের আগে বিয়ে হয়েছে, দুটি সন্তান আছে, এ কথা সবাই জানলেও দ্বিতীয় বিয়ের কোনও খবরই জানেন না এলাকাবাসী।

এদিকে সংবাদ পেয়ে সরেজমিনে রবিবার সকালে ঝর্ণার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তার পিতা ওলিয়ার রহমান ও মাতা শিরীনা বেগমের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের মেয়ে জান্নাত আরা ঝর্ণার নয় বছর বয়সে বিবাহ হয়েছিলো হাফেজ শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির সাথে। তার বাড়ি বাগেরহাটের কচুড়িয়া এলাকায়। তাদের আব্দুর রহমান ও তামীম নামে দুজন পুত্র সন্তান রয়েছে।

তারা জানান, পারিবারিক কলহের জেরে আড়াই বছর আগে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। তারপরে দু’বছর আগে পরিবার থেকে পাত্র দেখে মেয়েকে বিবাহ করার কথা বললে সে বলতো তার বিবাহ হয়ে গেছে তাই তার জন্য আর কোন পাত্র না দেখতে। তবে কার সাথে সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে সে কথাটি পরিবারকে জানায়নি কখনো। শুধু একবার ভিডিও কলে তার দ্বিতীয় স্বামী মামুনুল হককে দেখিয়েছিল কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি তিনি ছিলেন মাওলানা মামুনুল হক।

প্রথম স্বামী হাফেজ শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদুল্লাহর সাথে জান্নাত আরা ঝর্ণার পরিবারের কোন যোগাযোগ আছে কি-না জানতে চাইলে তারা জানান, ডিভোর্সের পরে তার সঙ্গে আর কোন যোগাযোগ রাখেনি তারা। তাই হাফেজ শহীদুল্লাহর সাথে যোগাযোগের কোন মাধ্যম না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোনায়েম জানান, ঝর্ণার পিতা ওলিয়ার রহমান একজন সহজ সরল মানুষ। কামারগ্রাম চার নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার মেয়ের আগে বিয়ে হয়েছে। তার দুই ছেলেও আছে, পরে বিয়ে হয়েছে কিনা জানি না। এলাকার কেউ জানে বলেও মনে হয় না।

প্রসঙ্গত, শনিবার বিকেল ৩টায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়্যাল রিসোর্টের পঞ্চম তালার ৫০১ নম্বর কক্ষে তাদেরকে অবরুদ্ধ করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

আপনার মতামত লিখুন :