‘ক্রিকেট’-এর ভাষা বুঝেছেন, বিজ্ঞানীর সম্মানার্থে নামকরণ নব পতঙ্গদ্বয়ের

Sara deshSara desh
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:৩৬ PM, ১৮ মার্চ ২০২১

 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: তিনি কীট পতঙ্গ নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন। মূলত ঝিঁঝিঁ পোকা জাতীয় পতঙ্গের ডাকের যে শব্দ তার বিভিন্ন অর্থ হয়, কি ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রকারভেদ নিয়ে কাজ করছেন। আজ প্রায় ২৬ বছর হয়ে গিয়েছে এই কাজ করে চলেছেন তিনি। এবার তাকেই সম্মান দুই দেশের। এই জাতীয় দুটি পতঙ্গের নামকরণ করা হল তাঁর নামেই। তিনি রোহিণী বালাকৃষ্ণণ।

দেশ থেকে বিদেশ তিনি ঘুরে বেরিয়েছেন ওঁদের ডাক শুনতে। ওঁরা কি বলতে চাইতে তা বুঝতে। দীর্ঘদিন কাজ করে বহু সম্মান পেয়েছেন। কিন্তু তাঁর কাজের সম্মানের জন্য পতঙ্গের নামকরণ তাঁর নামেই , এমন কখনও হয়নি। এবার সেটাই হয়েছে। মেক্সিকো ও তাঁর আপন জন্মভূমি ভারত তাঁর নামে পতঙ্গের নাম দিয়েছে। একটি নতুন আবিষ্কার হওয়া পতঙ্গের নাম অক্ট্যান্থাস রোহিনেই। এই নামটি দিয়েছে ন্যান্সি কলিন্স। তিনি মার্কিন নাগরিক এবং এই ক্রিকেট জাতীয় পতঙ্গ নিয়েই দীর্ঘদিন কাজ করছেন। তিনি জানিয়েছেণ , ‘আমি ওঁর সঙ্গে কোনওদিন কাজ করিনি বা একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়নি। তবে আমি ভারতীয় ক্রিকেট জাতীয় পতঙ্গদের বিষয়ে অনেক প্রশ্ন অনেক সময়েই করেছি উনি তাঁর অমুল্য সময় থেকে আমায় সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন , যা আমার কাজকে এফিয়ে নিয়ে যেতে অনেক সাহায্য করেছে। তাই ওনার সম্মানার্থে এই নামকরণ’

মঞ্জরী জৈন তিনিও নতুন একটি এমন পতঙ্গ আবিষ্কার করেছেন। তিনি রোহিণী বালাকৃষ্ণণের নামে নামকরণ করেছেন এই পতঙ্গের। মঞ্জরীকেও অনেক কাজে সাহায্য করেছেন রোহিণী বালাকৃষ্ণণ। তাই তাঁকে সম্মান জানিয়ে তাঁর এই নামকরণ। কেরালায় প্রাপ্ত এই নয়া পতঙ্গের নাম দেওয়া হয়েছে টেলিয়োগ্রিলাস রোহিণী।

ক্রিকেট গ্রিলিডা পরিবারের পতঙ্গ। এদের সঙ্গে ঝিঁঝিঁ পোকার সম্পর্ক রয়েছে এবং দূরসম্পর্কীয়ভাবে ঘাস ফড়িংয়ের সঙ্গে যোগ মিলেছে। এদের শরীর প্রধাণত বেলনাকার, মাথা গোলাকার এবং লম্বা এ্যান্টেনা রয়েছে। মাথার পেছনটা মসৃন। পেটের নিচের অংশ শেষ হয়েছে এক জোড়া লম্বা কাটা সদৃস; মেয়েদের রয়েছে একটি লম্বা বেলনাকার ‘ovipositor’। পেছনের পায়ের রয়েছে লম্বা থাই, যা লাফ দেয়ার জন্য শক্তি যোগায়। সামনের পাখনা শক্ত, পাখনা ঢেকে রাখার চামড়ার আস্তরন রয়েছে এবং কিছু ঝিঁঝিঁ পোকা এই অংশগুলো পরস্পর ঘষে আওয়ার সৃষ্টি করে। পেছনের পাখনা ঝিল্লিময় এবং ভাজ করে রাখা যায় উড়ার জন্য। অনেক প্রজাতি আছে যারা আবার উড়তে পারে না। এই পরিবারের সবচেয়ে বড় পোকার নাম বুল ঝিঁঝিঁ পোকা, যা ৫ সেমি,২ ইঞ্চি লম্বা হয়।

৯০০ টিরও বেশি ঝিঁঝিঁ পোকার প্রজাতি চিহ্ণিত করা আছে; গ্রিলিডা বর্গটি পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। গ্রীষ্মমন্ডলীয় এলাকায় এর বেশিরভাগ বৈচিত্র্য দেখা যায়। এদের বিভিন্ন জায়গায় বসতি করতে দেখা যায় যেমন ঘাসে, ঝোপে, বনের গুহায়, জলাভূমি এবং বেলাভূমিতে। ঝিঁঝিঁ পোকারা নিশাচর, এদের সহজে চেনা যায় তাদের শব্দের জন্য। এই ডাক আসলে মেয়েদের কাছে টানার জন্য পুরুষ ঝিঁঝিঁ পোকা দিয়ে থাকে। আবার এদের মধ্যে কিছু প্রজাতি আছে যারা শব্দ করতে পারে না। যারা গান বা ডাক দিতে পারে তারা ভাল শ্রবণ শক্তিরও অধিকারি কারণ তাদের হাটুতে আছে টিমপানা।

আপনার মতামত লিখুন :